নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে মিছিল করেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় তারা বাড়ি ফিরবেন না। বিগত দিনগুলোতে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে কমিশন গঠন হলেও গেজেট প্রকাশ না করে অবিচার করা হয়েছে। এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সেখান থেকেই তারা যমুনা অভিমুখে রওনা দেন। এই কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে পালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গত ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন শুধু গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পে কমিশনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন কমিশন প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় এই সরকার পে স্কেল বাস্তবায়নে যাচ্ছে না। কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে এ ধরনের পে স্কেল সাধারণত একসঙ্গে বাস্তবায়িত হয় না, পর্যায়ক্রমে হয়। অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে তা সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।