যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় অবৈধভাবে কীটনাশক ও সার মজুদ এবং অনুমোদন ছাড়াই প্যাকেটজাত করার অভিযোগে হাবিবউল্লাহ খান নামে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে চাঁচড়া ঢাকা রোডে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে একটি বাড়িতে র্যাব-৬, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ অভিযানে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, হাবিবউল্লাহ খান প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও গত তিন বছর ধরে তার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। লাইসেন্স ছাড়া তিনি নিজ বাড়িতে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য মজুদ, পুনঃপ্যাকেটজাত এবং বিক্রি করে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ও সার, অসংখ্য খালি বোতল ও প্যাকেট, এবং লেবেলবিহীন বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে অনুমোদন ছাড়াই পণ্য প্যাকেটজাত করার প্রমাণ পাওয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্তকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি জব্দ করা অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এমন অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানাসহ র্যাব ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কৃষি কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানান, এ ধরনের অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মাঠে ব্যবহৃত হলে কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জমির উর্বরতা ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।