1. info@dailyshadhinbarta.com.bd : sbarta : দৈনিক স্বাধীন বার্তা Shadhin Barta
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

নান্দাইলে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ: টানা অনুপস্থিতি ও অবৈধ নিয়োগ

শহিদুল ইসলাম, জেলা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাদিরাবাদ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা, অবৈধ নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

অধ্যক্ষের এসব অনিয়ম উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেতন-ভাতার সরকারি অংশ বন্ধের দাবিতে রোববার (৩০ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতার নাতি মো. মঞ্জুরুল হক।

১৯৫০ সনে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজের স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশা বলে সরেজমিন পরিদর্শণে জানা গেছে। এমনকি দীর্ঘ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ছাড়াই চলছে এর কার্যক্রম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে আব্দুল আজিজ অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে উচ্চ আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের নাতি মো. মঞ্জুরুল হক। অভিযোগে ১৯৯৫ সালের নিয়োগ বিধি অনুসারে অধ্যক্ষের কাম্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার অভাবসহ অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিদর্শক নাদিয়া মাহমুদ স্বাক্ষরিত শুনানির নোটিশ করলেও অধ্যক্ষ উপস্থিত হননি। এদিকে গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিচারপতি ফয়জে আহাম্মদ ও বিচারপতি মঞ্জুর আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বাদীর (মঞ্জুরুল হক) পক্ষে রায় প্রদান করেন।

এছাড়াও গত ৪ নভেম্বর তারিখ থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসায় টানা অনুপস্থিত রয়েছেন। অথচ তিনি ৫ ও ৬ নভেম্বর—মাত্র দুই দিনের জন্য ছুটির দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু মাদরাসায় বার্ষিক চূড়ান্ত পরীক্ষা চলমান থাকলেও তিনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে অধ্যক্ষের বেতনভাতা উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দাতা সদস্যের পুত্র মোশারফ হোসেন ও শিক্ষক আ: মোনায়েম জানান, অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতির অভাবে দীর্ঘদিনের এই প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা নাজুক।

অভিযোগকারী মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, “হাইকোর্টের রায় এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অমান্য করে দিনের পর দিন অধ্যক্ষ অনুপস্থিত। পরীক্ষার সময়ও তিনি নেই। প্রশাসনের নিকট তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং বেতন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আজিজ প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বললেও পরে জানান তিনি হাড় ক্ষয়রোগে ভুগছেন। তবে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও নাজুক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, চাকুরী নেওয়ার পূর্ব থেকেই সাইনবোর্ড ছিল না। এখন ডিসেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হবে। যারা নতুন আসবে তারা এসব করবে। এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাই না বলে তিনি কল রেখে দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ভূইয়া জানান, “ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানটির নাজুক অবস্থা। শীঘ্রই আবার পরির্দশনে যাবো।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাতও অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিদর্শক নাদিয়া মাহমুদ বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের নিকট একটি নোটিশ করা হয়েছিল, কিন্তু উনি শুনানিতে আসেননি বা কোনো লিখিত জবাব দেননি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
LICENCE NO- TRAD/DSCC/210965/2019 and applied for registration.
Community Verified icon