১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাড়লা গ্রামের যে অধ্যায় রক্তে লেখা, তা আজও জাতীয় ইতিহাসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পায়নি। পাকবাহিনীর নির্মম হামলায় নিহত চার শহীদ—মালধর, আবুল হাসেম, আব্দুল খালেক ও জুলহাস মিয়া—স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও গেজেটভুক্ত নন। গ্রামে নেই কোনো সরকারি স্মৃতিস্তম্ভও।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ তফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ জন বীরের একটি ক্যাম্প ছিল বাড়লায়, যা এডভোকেট নুরুল ইসলাম ভুইয়া’র বাড়িতে স্থাপিত ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশনে থাকায় ক্যাম্প অরক্ষিত হয়ে পড়লে পাকবাহিনী গ্রামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সেদিন ৬৫টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। পালাতে থাকা মানুষদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় চার নিরীহ গ্রামবাসীকে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম বলেন,
“ওই দিন গ্রামের কান্না থামেনি। এত বছর পরও শহীদদের কোনো স্বীকৃতি না পাওয়া—এটাই আমাদের সবচেয়ে কষ্ট।”
শহীদ আব্দুল খালেকের পরিবারের সদস্যরা বলেন,
“স্বীকৃতি ও স্মারক না থাকলে ইতিহাস হারিয়ে যাবে। আমরা শুধু চাই—সরকার তাঁদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করুক।”
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বাড়লা গণহত্যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
তাঁদের দাবি—গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করা ও বাড়লা গ্রামে সরকারি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা সময়ের দাবি।