নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মো. রিপন মিয়া দীর্ঘ পনেরো বছর পর জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। গত ২৮ জুলাই পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় তার সন্ধান পাওয়ার পর স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। একজন নিখোঁজ মানুষের এভাবে ফিরে আসায় কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর শেওড়া গ্রামজুড়ে এখন আনন্দ ও কৌতূহল দুটোই বিরাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শেওড়া গ্রামের খালেক মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া ২০১১ সালে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয় স্বজনের কাছে খোঁজ নেন এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় অনুসন্ধান চালান। কিন্তু তার কোনো সন্ধান মেলেনি। সময়ের পরিক্রমায় পরিবারের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই বা ফিরে আসবেন না।
দীর্ঘ পনেরো বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে গত ২৮ জুলাই ২০২৬। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের সূত্র ধরে জানা যায়, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় রিপন মিয়াকে জীবিত অবস্থায় দেখা গেছে। এই খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন এবং সসম্মানে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
রিপন মিয়ার বাড়ি ফেরার সংবাদ মুহূর্তেই শেওড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান প্রতিবেশী ও স্বজনরা। দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষার অবসানে পরিবারের সদস্যদের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু।
এ প্রসঙ্গে শেওড়া গ্রামের ইউপি সদস্য সঞ্জু মিয়া বলেন যে রিপন মিয়া প্রায় পনেরো বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় নিখোঁজ হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার তার কোনো খোঁজ পায়নি। সম্প্রতি তিনি জীবিত অবস্থায় ফিরে আসায় শুধু তার পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসী আনন্দিত এবং এটি তাদের এলাকার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন একটি ঘটনা।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান যে বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ওই ব্যক্তি পরিবারের কাছে ফিরে আসায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ও পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তবে দেড় দশকের এই দীর্ঘ সময়ে রিপন মিয়া কোথায় ছিলেন, কীভাবে জীবনযাপন করেছেন এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছেছিলেন সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তরও সামনে আসবে।
পরিবারের সদস্যরা রিপন মিয়াকে নিরাপদে ফিরে পেতে সহযোগিতা করা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মানবিক এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পরও কখনো কখনো হারিয়ে যাওয়া মানুষ ঠিকই আপন ঠিকানায় ফিরে আসে।