প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা হস্তান্তর স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন (এবং গণভোট) অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস (সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট) ও মর্স ট্যান (সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অটল রয়েছে। নির্বাচনের সময় নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা বা সংশয়ের অবকাশ নেই। প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “কে কী বলুক, নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারিতেই—একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু সরকার তার অঙ্গীকার থেকে সরবে না। আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং কোনো পক্ষপাত বা প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়াই ভোট পরিচালনা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার এই দৃঢ় বক্তব্য নির্বাচন ঘিরে চলমান সংশয় ও অস্থিরতা অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। এটি দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।