‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা–২০২৬’ প্রতিপাদ্যে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা সম্মেলন আজ (১৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সম্মেলনটি চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ইউজিসি বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম।
স্বাগত বক্তব্য দেবেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান।
সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেবেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউজিসি জানিয়েছে, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গুণগতমানসম্পন্ন ও কার্যকর করে তোলা এবং দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা কমিশনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং জোরদার করাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। তিন দিনের এই সম্মেলনে মোট আটটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান চিত্র, সুশাসন, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হবে।
দ্বিতীয় দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর সংযোজন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা, অংশীজনদের সংলাপ এবং উপাচার্যদের সঙ্গে হিট প্রকল্পভিত্তিক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু নিয়ে বিশেষ আলোচনার পর ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ গ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।এই সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইউজিসি।