শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেত্রকোণায় অনুষ্ঠিত হয়েছে “আঞ্চলিক আলাপন: শিক্ষা থেকে সম্ভাবনা” শীর্ষক এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠক। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনফর্মড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা সোসিও-ইকোনমিক অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সেরা)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান।
সভায় আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে তৃণমূলের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সভার আলোচনায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়— শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বাজার উপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা খাতে বাজেট ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানো।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, দক্ষতা ঘাটতি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী বয়সভিত্তিক প্রয়োজনীয় গাণিতিক ও মৌলিক শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আয়োজকরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ের এই আলোচনা ও সুপারিশগুলো জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরা হবে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের প্রত্যাশা ভবিষ্যতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষ বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধান অতিথি ও সভাপতি বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়ন নেত্রকোণার সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।